Heart attackHealth 

দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে বাড়তে পারে জীবনের ঝুঁকি

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : দেশজুড়ে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর হারও। করোনা আবহের হাত থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে একাধিক রাজ্যে লকডাউন জারি করা হয়েছে। করোনার প্রথম পর্যায় অতিক্রম করলেও দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতায় দেশজুড়ে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই অতিমারী সংকটে একাধিক বেসরকারি সংস্থা কর্মচারীদের জন্য বাড়িতে থেকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম হওয়াতে দেখা যাচ্ছে কর্মীরা অফিসে গিয়ে কাজ করলে দিনে হয়তো ৬-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষই এখন বাড়িতে বসে কাজ করছেন, ফলে অফিসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সময় ধরে অফিসের কাজ করে চলেছেন। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেশি সময় ধরে কাজ করা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে। এ বিষয়ে রিসার্চ করে আরও জানা গিয়েছে, বেশি সময় ধরে কাজ করার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুও হচ্ছে ৷

এক্ষেত্রে হু এর এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মাত্রার অতিরিক্ত সময়ের বেশি কাজ করার ফলে বছরে হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। করোনা সংক্রমণ কালে বাড়ি বসে কাজের পরিমান আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিন লকডাউন চলায় বেশিরভাগ কর্মীই ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন। ফলে মানুষের শারীরিক ক্ষতিও হচ্ছে। রিসার্চ করে দেখা গিয়েছে, ২০১৬ সালে বেশি সময় ধরে কাজ করার জন্য স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেশি দেখা গিয়েছিল । এর প্রভাবে গোটা বিশ্বে প্রায় ৭.৪৫ লক্ষ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। দেখা গিয়েছে ২০০০ সালের তুলনায় এই বছর প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ডিরেক্টর মারিয়া নিরার বক্তব্য, এক সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এই তথ্যের মাধ্যমে সেই সমস্ত কর্মীদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করা হবে যাঁরা এখনও দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে থাকেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি যাঁরা কাজ করে থাকেন তাঁদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ মানুষের প্রাণের ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার জন্য পার্শ্বপ্রতিয়া দেখা গিয়েছে চিন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার কর্মীদের মধ্যে।

Related posts

Leave a Comment